কীভাবে পেশাদার হতে পারবেন

একজন মানুষ কেমন দেখতে, কথা বলতে, লিখতে, তাই ঠিক করে দেয় যে সে পেশাদার না অপেশাদার। । আমাদের এই সমাজে পেশাদারিত্বের তেমন গুরুত্ব নেই। মানুষের বিশ্বাস পেশাদার কাজ অস্বাভাবিক নয়।  একজন মানুষ ড্রাইভিং পরীক্ষায় শতকরা দশভাগ ভুল করতে পারে কিন্তু তারপরও তাকে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া হয়। । আর এটাই অপেশাদারিত্বের লক্ষণ। । একজন অদক্ষ ড্রাইভার দ্বারা মানুষের জীবন বিপন্ন হতে পারে কখনো এমন কাজ করা ঠিক নয় যাতে অপেশাদারিত্ব প্রকাশ পায়। । আপনি যা করবেন তা যেন পেশাদার মানদণ্ডে হয়। । নিজের মনের আয়নায় নিজেকে পর্যালোচনা করবেন। যাই করেন না কেন পেশাদার মানদণ্ডে করুন। । আর এতে করে আপনার পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি হবে।

   একজন পেশাদার মানুষ  পরিস্থিতি ভালোভাবে দেখে তারপর পর্যালোচনা শুরু করে এবং সিদ্ধান্ত উপনীত হয়। ডক্টর ইন হারবার এর মতে,জীবনে প্রথম পেশাদারিত্ব অর্জন করুন, পেশাদার মানুষ ক্রমশ সফল হয়। সফল মানুষেরা নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন করে।  পেশাদার দৃষ্টিভঙ্গি রেখে নিজেকে তৈরি করে এবং পেশাদার হয়।

    একজন পেশাদার ও অপেশাদার মানুষের মধ্যে 17 টি পার্থক্য ঃ
    ১.পেশাদাররা একটা কাজের 100% শেখে আর অপেশাদাররা তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ অংশ এড়িয়ে যায়।
    ২.পেশাদার মানুষেরা যত্নসহকারে কি প্রয়োজন আর কি দরকার তা বের করে। অপেশাদাররা তা অনুমান করে।
    ৩.পেশাদার মানুষকে পেশাদার এর মত দেখায়। অবশ্যই পেশাদারের মতো পোশাক পরে, কথাবার্তা বলে। । পক্ষান্তরে অপেশাদার ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব ও কথাবার্তা ঢালু হয়।
    ৪.পেশাদার ব্যক্তি যে ক্ষেত্রে কাজ করে তা পরিষ্কার ও সুশৃঙ্খল রাখে।
অপেশাদার ব্যক্তি তার চিন্তা ভাবনায় বিভ্রান্ত থাকে তার কাজের ক্ষেত্রও অগোছালো ও নোংরা হয়।
   ৫.। পেশাদার ব্যাক্তি সচরাচর পরিষ্কার মাথার ও ফোকাসড হয়। অন্যদিকে অপেশাদাররা সঠিক সিদ্ধান্তে কখনো উপনীত হতে পারে না। মনের ভালোলাগা দিয়ে পরিচালিত হয়।
   ৬.। একজন পেশাদার তার ভুলকে কখনো এড়িয়ে যায় না। । অন্যদিকে অপেশাদাররা তাদেরকে ভুলকে উপেক্ষা করে বা এড়িয়ে যায়।
   ৭.পেশাদার মানুষ কঠিন পরিস্থিতিতে আরো বেশি উদ্যমী হয়ে পরিশ্রম শুরু করে। । আর  অপেশাদাররা কঠিন পরিস্থিতি থেকে সব সময় বেরিয়ে আসার চেষ্টা করে।
   ৮.। অন্যের বিরক্তি ও সমস্যার মুখোমুখি হওয়া পেশাদার লক্ষণ অন্যের সমস্যা এড়িয়ে যাওয়া অপেশাদারিত্বের লক্ষণ।
   ৯. পেশাদাররা উচ্চতর মানসিক টোন ব্যবহার করে যেমন তৃপ্তি, আগ্রহ, উদ্যম, প্রফুল্লতা। । অপেশাদাররা নিম্ন মানসিক টোন ব্যবহার করে যেমন রাগ, শত্রুতা, ভয় ও বিরক্তি।
   ১০.পেশাদাররা শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে আর অপেশাদাররা সুযোগ পেলেই হাত ছেড়ে দেয়।
   ১১.পেশাদাররা প্রত্যাশার চাইতে বেশি উৎপাদন করে অপেশাদাররা প্রয়োজনীয় উৎপাদন করতে হিমশিম খাই
   ১২.পেশাদারদের উৎপাদিত পণ্য উচ্চমানের হয়ে থাকে পক্ষান্তরে অপেশাদারদের উৎপাদিত পণ্য নিম্নমানের হয়।
   ১৩. পেশাদাররা উচ্চমানের বেতন অর্জন করে। অপেশাদাররা কম বেতন পাই আর মনে করে এটা অনার্য।
   ১৪. পেশাদার মানুষ তার কাজকে কখনো অসম্পূর্ণ রেখে চলে যায় না। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তার প্রকল্প গুলি শেষ করে।  আর অপেশাদাররা অসমাপ্ত কাজ দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে। তার চারপাশে অসমাপ্ত কাজের স্তুপ জমা হয়।
   ১৫.পেশাদার মানুষেরা সব সময় লেভেল হেড ও আশাবাদী হয় অপেশাদাররা বিরক্ত হয় ও সবচেয়ে খারাপ ধরে নেয়।
   ১৬.হিসাব ও একাউন্ট পরিচালনা করার ক্ষেত্রে পেশাদাররা সাবধানী হয়ে থাকে। । অপেশাদাররা হিসাব ও অ্যাকাউন্টের ব্যাপারে অলস হয়।
   ১৭.। সুনিয়ন্ত্রিত ভবিষ্যৎ পেশাদার মানুষের কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশা আর অপেশাদারদের ভবিষ্যত অনিশ্চিত।
    পরিশেষে বলা যায় পেশাদার হওয়ার অন্যতম উপায় হল পেশাদার সিদ্ধান্ত নেওয়া।

One thought on “কীভাবে পেশাদার হতে পারবেন

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started