জানেন কি পৃথিবীর সবচাইতে বড় জীব ঘাস

অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত হাঙ্গর উপসাগরে একটি বিশেষ সামুদ্রিক ঘাসের সন্ধান পাওয়া গেছে যা 180 কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তীর্ণ। । এটি মূলত একটি হাইব্রিড প্রজাতির ঘাস যার নাম পোসিডন রিবন উইড। । এই উদ্ভিদটি সম্পর্কে একটা নতুন গবেষণা সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে আর তাতে বলা হয়েছে এই উদ্ভিদ বিগত সাড়ে চার হাজার বছর হতে নিজেকে ক্লোনিং করে চলছে। । সামুদ্রিক ঘাস আর শৈবাল এক জিনিস নয়। । এই সামুদ্রিক গাছের তৃণভূমি সমুদ্রের তলদেশ অবস্থিত।

     । দুই বছর আগে জেন এজেলা ও মিশেশ এজেলা দম্পতি তাদের সহকর্মীদের সাথে নিয়ে পোসিডনিয়া ঘাসের উপর একটি জেনেটিক জরিপ চালিয়েছিলেন হাঙ্গর উপসাগরের বিভিন্ন অঞ্চলে। গবেষক দল বিভিন্ন প্রান্তের বিভিন্ন জায়গা হতে দশটি পসিডোনিয়া অংকুর ভূমিতে এনেছিলেন গবেষণা করার জন্য। । মাটি ও জলে এই ঘাসের ডিএনএ বিশ্লেষণ ও তুলনা করে তারা দেখতে পান যে ভিন্ন ভিন্ন উদ্ভিদের অনেকের ডিএনএ কার্যত অভিন্ন। । ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া ইনভারসিটির গবেষকদলের আর বুঝতে বাকি থাকেনা যে এটা একটিমাত্র উদ্ভিদ। । উপসাগরের বয়স ও এখানে সামুদ্রিক ঘাস কিভাবে বৃদ্ধি পায় তার উপর ভিত্তি করে গবেষকরা অনুমান করেন যে হাঙ্গর বে ক্লোন  প্রায় সাড়ে চার হাজার বছরের পুরোনো। । এটিকে দুটি প্রজাতির একটি সংকর বলে মনে হয় এবং এতে দুটি সম্পুন্ন সেট ক্রোমোজোম আছে। । এই অবস্থার নাম পলিপ্লয়েডি। এই ভ্রুন্র  যদি কোন প্রাণীর দেহে সৃষ্টি হয় তবে তা প্রাণঘাতী হতে পারে কিন্তু যেহেতু এটি গাছের ব্যাপার তাই তা পরিবেশের জন্য সহায়ক হতে পারে। । সাধারণত ক্লোনের ঘাসে ফুল ফোটে না এবং ক্লোনিং এর মাধ্যমে উৎপাদন হয়। । সৃষ্টির শুরুতে যখন জলবায়ু পরিবর্তন হয় ঠিক সেইসময় ক্লোনিংয়ের এই ব্যাপারটি ঘাসটিকে টিকিয়ে রাখে। । এই ব্যাপারটা বংশবিস্তার কে সহজ করে এবং সঙ্গীর প্রয়োজন হয়না। । বর্তমানে সারা পৃথিবীতে যে হারে সমুদ্রের তলদেশে শৈবাল ও ঘাস ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা থেকে পৃথিবীর জলবায়ু কে টিকিয়ে রাখতে পারে এই প্রক্রিয়া। । জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় যা একটি অভূতপূর্ব সাফল্য এনে দিতে পারে। । আর এমন সব আশ্চর্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে ২৯মে প্রসিডিংস অব দ্য রয়েল সোসাইটি  জার্নালে৷

   এই ঘটনাটা কে আসলে সাইন্স ফিকশন এর মত শোনাচ্ছে। ।  দুটি ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত প্রজাতি হাইব্রিডস করে এক সুপার অর্গাজম তৈরি যার বৃদ্ধি ও প্রসারণ আর থামানো যায় না। । আসলে এই সামুদ্রিক ঘাসে ২০ টির জায়গায় 40 ক্রোমোজোম রয়েছে। । বিজ্ঞানীদের ধারণা অর্ধেক ক্রোমোজোম রিবন আগাছা হতে আর অর্ধেক অন্য প্রজাতি থেকে আসতে পারে। । এই ব্যাপারে আরও বিস্তর গবেষণা চলমান। বিজ্ঞানীরা ওনাদের রিপোর্টে আরো বলেছেন যে এটি পৃথিবীর সবচাইতে বড় জীব যা ছত্রাক ও সামুদ্রিক প্রাণীর চাইতেও বড়।

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started